সৌন্দর্যের সাথে বিনোদন কালেক্টরেট পুকুরে

সৌন্দর্যের সাথে বিনোদন যোগায় কালেক্টরেট পুকুর।

যশোর কালেক্টরেট পদ্ম পুকুর

ঐতিহাসিক যশোর কালেক্টরেট ভবনের পাশে অবস্থিত এই পুকুরটি আধুনিক সংস্কারের ফলে এক মনোমুগ্ধকর রূপ ধারণ করেছে। এর সৌন্দর্যকে কয়েকটি দিক থেকে বর্ণনা করা যায়, প্রথমত কালেক্টরেট ভবনের কথায় বলি!

যশোর কালেক্টরেট ভবনের রাত ও দিনের চিত্র

ঐতিহাসিক স্থাপনা: 
বৃটিশ ভারত ও অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা যশোর। দড়াটানা ভৈরব নদের তীরে দুইতলা বিশিষ্ট ৩৬০ দোয়ারি কালেক্টরেট ভবনটি ১৭৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে এখন অব্দি এটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনটি দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনই ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী।

চারপাশের বাঁধাই ও ওয়াকওয়ে:
পুকুরের চারপাশ কংক্রিট দিয়ে সুন্দরভাবে বাঁধানো হয়েছে। পুকুরের পাড় ঘেঁষে দর্শনার্থীদের হাঁটার জন্য একটি ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ তৈরি করা হয়েছে, যা পরিচ্ছন্ন ইটের টালি দ্বারা বাঁধানো। এই পথ ধরে হেঁটে প্রকৃতির শোভা উপভোগ করা যায়।

শালীনতা ও প্রশান্তি: 
শহরের কোলাহল ও দূষণ থেকে স্বস্তি পেতে এটি এক দারুণ স্থান। সকাল-বিকেল সব বয়সী মানুষ এখানে ভিড় করে হাঁটা, বসা ও প্রকৃতির নৈসর্গিক পরিবেশ উপভোগ করার জন্য। 

কালেক্টরেট পুকুরের রঙিন মাছ

কালেক্টরেট পুকুরের রঙিন মাছ: 
পুকুরের প্রধান আকর্ষণ নানা প্রজাতির রঙিন মাছ। মুড়ি কিংবা চানাচুর অথবা ভাসমান যে কোন খাদ্য দ্রব্য পানিতে ছিটিয়ে দিলে ছুটে আসে শত শত রঙিন মাছ। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মনে এক অন্যরকম আনন্দ সৃষ্টি হয় তখন।

বসার ব্যবস্থা: 
দর্শনার্থীদের আরামের জন্য পুকুরের পাড়ে বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে বসে মানুষজন প্রকৃতির শোভা দেখতে পারে এবং কিছুটা বিশ্রাম নিতে পারে।

সাংস্কৃতিক গুরুত্ব: 
ঐতিহ্যবাহী কালেক্টরেট জামে মসজিদ-এর মিনারের অংশও দেখা যায়, যা স্থানটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে।

যশোর কালেক্টরেট পুকুরে ওয়াকিং রোল বল

কালেক্টরেট পুকুরের ওয়াকিং রোল বল:
নতুনভাবে ভিন্নতা নিয়ে বারবার সেজে ওঠে যশোর কালেক্টরেট পুকুর,কিছুদিন আগেও এই পুকুর ছিলো পদ্ম ফুলে ভরা। পদ্ম ফুলের সৌন্দর্যের বাহারে পুকুরটি খ্যাতি অর্জন করে পরিচিতি লাভ করেছিলো "কালেক্টরেট পদ্ম পুকুর নামে। কিন্তু বর্তমানে আবারও ভিন্নতা। এখানে আরেকটু বিনোদনের জন্য যুক্ত করা হয়েছে ওয়াকিং রোল বল,স্পিড বোট সহ ভাসমান টায়ার। শহর কিংবা দূর-দূরান্তের মানুষ বিনোদনের পাশাপাশি খানিকটা প্রশান্তি পেতে ছুটে আসেন এই পুকুর পাড়ে।

যশোর কালেক্টরেট পুকুরটি তার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জলজ সৌন্দর্য এবং উন্নত নাগরিক সুবিধার কারণে যশোর শহরের অন্যতম সেরা স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এটি এক টুকরো প্রশান্তি যা দ্রুত গতির শহরের জীবনে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস যোগায়। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url