মন্টু রায়ের সেলুনে আজও রেডিও চলমান

এক সময় দেশ বিদেশের খবর জানা সহ চিত্তবিনোদনের সেরা মাধ্যম ছিলো রেডিও। তখন খবর প্রচারের সময় হলে শহর কিংবা গ্রামের মানুষ নির্দিষ্ট কোন স্থানে সমবেত হয়ে খবর শোনা সহ রেডিওতে প্রচার হওয়া নানা অনুষ্ঠান উপভোগ করতো,কেননা তখনও ঘরে ঘরে রেডিওর প্রচলন ছিলোনা। যুগ যুগ ধরে রেডিওর জনপ্রিয়তা ও প্রচলন ছিলো সব যন্ত্রের উর্ধ্বে। আমরা যারা নব্বই দশকে জন্মেছি তারা বোধহয় রেডিওর সাথে শৈশব পার করার শেষ প্রজন্ম। আজ সারা দেশ ঘাটলে হয়তোবা কিছু সংখ্যক মানুষকে পাওয়া যাবে যাদের হৃদয়ের স্পন্দনে আজও জড়িয়ে আছে "রেডিও।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৪নং দূর্বাডাঙ্গা ও ১৫নং কুলটিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত খাটুয়াডাঙ্গা বাজার। একটা সময় বাজারটির প্রাচীন নাম ছিলো তেঁতুল তলা বাজার। পুরাতন সেই তেঁতুল গাছ তলায় বসতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান ও হাট সেলুন। তখন আশপাশের মানুষের কাছে তেঁতুলতলার হাট নামটি ছিলো প্রচলিত। কালের বিবর্তনে গাছটি মারা যাওয়ার পর খাটুয়াডাঙ্গা মৌজায় বাজারটি অবস্থিত হওয়ায় বাজারের পুনঃ নাম দেওয়া হয় খাটুয়াডাঙ্গা বাজার।

মন্টু রায় পুরাতন সেই তেঁতুল গাছ তলায় বসে সেলুনের কাজ করতেন। বিনোদনের খোরাক হিসাবে তার একমাত্র যন্ত্র ছিলো রেডিও। কাজের পাশাপাশি দেশ বিদেশের খবরাখবর শোনা সহ নানা অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন সবাই মিলে। সেই থেকে শুরু হয় রেডিওর প্রতি ভালোবাসা।

পুরাতন ছোট রেডিও 

সেলুনে কাজ করছেন মন্টু রায়
রেডিওর সাথে মন্টু কাকার গভীর প্রেম,আর এই প্রেম থেকে বাংলাদেশ বেতারে প্রচার হওয়া প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠান সূচি তার মুখস্থ। শৈশব থেকেই তিনি রেডিও ভালোবাসেন তাই তার নিজ কর্মস্থলে আজও চলমান রয়েছে রেডিও৷


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url