যশোরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতের আমেজ

যশোরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতের আমেজ, শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহ: - ছবি অঙ্গন 

যশোরে খেজুর রস সংগ্রহ শুরু

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় আসতে না আসতেই শীত বুঝি ধরা দিয়েছে গ্রাম গঞ্জের পরিবেশে। যেখানে কার্তিকের আমন ধান পাকা ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ শহুরে জীবন, সেখানে কুয়াশায় মোড়ানো শীতের সকাল উপভোগ করছেন যশোরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা। আর শীত মানে বুঝতেই পারছেন খেজুরের রস, তা কি আর বলা লাগে!

কুয়াশায় মোড়ানো শীতের সকাল
ছবিটি যশোরের প্রত্যন্ত একটি অঞ্চল থেকে তোলা।

যশোরের প্রধান আকর্ষণ খেজুরের রস - সারাদেশে যশোরের সুমিষ্ট খেজুরের রস ও গুড় পাটালির ব্যপক চাহিদা রয়েছে। এবার অক্টোবরের শুরুতে যশোরের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়েছিলো গাছিদের খেজুর গাছ পরিচর্যা। খেজুর গাছ থেকে রস আহরণের অন্যতম টার্গেট নিয়ে গাছিদের ব্যস্ততা ছিলো চোখে পড়ার মত। গাছ পরিচর্যার ১০-১৫ দিন পর শুরু হয় রস আহরণের পালা।
জায়গা ও গাছের উপর নির্ভর করে অনেক স্থানে ১৫-২০ পরও শুরু হয় রস সংগ্রহ কার্যক্রম। গাছ পরিচর্যার নির্দিষ্ট সময় পর যে রস পাওয়া যায় তাকে চাঁচ রস বা জিরান রস বলা হয়। এই চাঁচ রস থেকে যে গুড় তৈরি হয় তাকে নলেন গুড় বলা হয়। 

খেজুরের রস সংগ্রহ কার্যকর

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন একজন গাছি রস সংগ্রহের জন্য মাটির তৈরি ভাঁড়/ঠিলা পাতানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এভাবে রাতভর ফোটা ফোটা রসে পূর্ণ হবে রসের ভাঁড়।

যশোরের খেজুর রস সংগ্রহ

গাছিদের মতে শীত যত তীব্র হবে খেজুর রসও তত মিষ্টি হবে। এভাবে এপ্রিল মাসের শেষ অব্দি চলতে থাকবে সুমিষ্ট খেজুর রস সংগ্রহ কার্যক্রম। বছরের অন্যান্য সময়ে অবহেলায় পড়ে থাকা মধুবৃক্ষের এই উদারতা দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো সচ্চলে ব্যপক অবদান রেখেছে। চলতি মৌসুমে যশোরের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ খেজুর গাছ থেকে আনুমানিক ১৫০ কোটি টাকা আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খেজুরের রস, গুড় আর পাটালির গন্ধে ভরে উঠবে মন। তখন আরও একবার জাগ্রত মনে গেয়ে উঠবে "ঠিলে ধুয়ে দে বৌ গাছ কাটতি যাবো। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url